বাংলাদেশের ইতিহাস

হিন্দু পৌরানিক গ্রন্থ,মহাভারত,মৎস পুরাণ,বৈদিক শাস্ত্রবেধে অংগ বংগ এবং  মগধ রাজ্যের উল্লেখ  পাওয়া যায়। প্রাচীন  ভারতের মগধ রাজ্যই  বর্তমানে বিহার নামে পরিচিত। বংগ খ্রিস্টপূর্ব  ষস্ট শতকে আয রাজ্য মগদের অংশ ছিল। পরবর্তী তে বংগ রাজ্য  প্রাচীন ভারতের যে সকল রাজবংশ বা সাম্রাজ্য অধীনে শাসিত  হয়েছে তার প্রধান প্রধান গুলি  হল-

-নন্দ সাম্রাজ্য ( ৩৪৫ খ্রীস্ট পূবাব্দ- ৩২১খ্রীস্ট পূবাব্দ)

-মৌয্য সাম্রাজ্য ( ৩২২ খ্রীস্ট পূবাব্দ- ১৮৫ খ্রীস্ট পূবাব্দ)

-শুঙ্গ ও অন্ধ্র বংশ ( ১৮৫ খ্রীস্ট পূবাব্দ- ২৫০খ্রীস্ট)

-গুপ্ত যুগ ( ৩২০-৫৫০ খ্রীঃ) 

-পাল শাসন (৬০৬-৬৩৭খ্রীঃ)

-গৌড় শাসন ( ৭৭৫-১১২৪খ্রীঃ)

-সেন যুগ ( ১০৯৮-১২০৪খ্রীঃ)

-মুসলিম শাসন (১২০৪-১৭৫৭খ্রীঃ)

-ব্রিটিশ  শাসন ( ১৭৫৭-১৯৪৭খ্রীঃ)

-পাকিস্তানি আমল (১৯৪৮-১৯৭১খ্রীঃ)

-স্বাধীন বাংলাদেশ  (১৯৭১-বতমান)

এবারে আমরা এ সকল শাসনকাল সম্পকে সংক্ষেপে কিছুটা জানব-

নন্দ সাম্রাজ্য

প্রাচীন  ভারতের মগধ জনপদ  কে কেন্দ্র  করে নন্দ সাম্রাজ্য গড়ে উঠে। এটি ৩৪৫ খ্রীস্ট পূবাব্দ থেকে ৩২১ খ্রীস্ট পূবাব্দ পযন্ত টিকে ছিল। এই সাম্রাজ্য পূবে বাংলা,পশ্চিমে পাঞ্জাব, উত্তরে হিমালয়,দক্ষিণে হিন্দু পবতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত  ছিল। এটি একটি সম্পদশালী রাষ্ট্র  ছিল। এ রাজ্যের সামরিক শক্তি  সম্পর্কে জানা যায়, দুই লক্ষ এর অধিক সৈন্য,দুই  হাজার রথ,এবং তিন হাজার হাতি ছিল। গ্রিক সম্রাট আলেকজান্ডার খ্রীস্ট পূব ৩২৬ অব্দে ভারতবর্ষ  আক্রমণ  করে সিন্ধু তীরবর্তী বেশ কয়েকটা রাজ্য নিয়ে নেন। এরপর আলেকজান্ডার বিপাশা নদী  পাড়  হয়ে মধ্য ভারত আক্রমণের পরিকল্পনা করে। কিন্তু  মগধের নন্দ সাম্রাজ্য ও বাংলার  মধ্যে এটাই  সাম্রাজ্যের বিশাল সামরিক শক্তির খবর পেয়ে আর পূবদিকে অগ্রসর  হয়নি। পরবর্তী কয়েক বছর আলেকজান্ডার এর এক সেনাপতি  সেলুকাস কতৃক গ্রিক এর সিন্ধুতীরবর্তী অঞ্চল সমুহ শাসিত  হয়।

মৌয্য সাম্রাজ্য

চন্দ্রগুপ্ত মৌয্য ৩২২ খ্রীস্ট পূবাব্দ নন্দ রাজ কে পরাজিত করে মৌয্য সাম্রাজ্য স্থাপন  করে।পূব নন্দ সাম্রাজ্য  এর মগধ কে কেন্দ্র  করে এই সাম্রাজ্য  গড়ে উঠে। আলেকজান্ডার  এর মৃত্যর পর তার ছয় সেনাপতি সাড়া বিশের গ্রিক বিচিত  অঞ্চল সমুহ ভাগ করে সাধীন রাজ্য  স্তাপন করে। ভারতবর্ষ  গ্রিক বিচিত অঞ্চল সমুহের শাসনভার গ্রহণ  করে  তার এক সেনাপতি  সেলুকাস। ৩০৩  খ্রীস্ট পূবাব্দ চন্দ্রগুপ্ত সেলুকাস কে পরাজিত  করে ভারতবর্ষের হারানো রাজ্য  পুনরুদ্ধার করে।পরবর্তী তে সেলুকাস তার কন্যা হেলেনাকে চন্দ্রগুপ্তের সাথে বিয়ে দিয়ে .মৌয্য সাম্রাজ্যের সাথে  মৈত্রতা স্তাপন করে।প্রাচীন  গ্রিস  এর পযটক মেগাস্থানিস এর বিবরণ  থেকে সেই যুগ এর বেশ কিছু তথ্য  জানা যায়।তার লেখা অনুসারে অনেক বিচিত্র  এই দেশ।এদেশের মানুষ দিনে মাত্র দুই ঘণ্টা  কাজ করে আর সারাদিন গল্প  করে,গান গায়,খায়-দায় আর ঘুমায়।এদেশের মাটিতে বীজ পড়লেই গাছ হয়। নদী তে জাল ফেললে ই মাছ পাওয়া যায়।সবসময়  আরামদায়ক আবহাওয়া। তার লিখাতে রাজ্যের রাজধানী একটি বর্ণনা পাওয়া যায়।পুরু শহর ছিল উঁচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা। ফাঁকেফাঁকে তীরন্দাজদের জন্য ছোট ছোট খোপ।শহরের চারপাশে চওড়া দেয়াল,৫০০ টা টাওয়ার, ৬৪ টা গেইট।দেয়াল,দূগ, ঘরবাড়িসহ পুরু শহর সবই ছিল কাঠের তৈরী।মৌয্য রাজ্য  ছিল ভারতীয়  ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য। উত্তরে হিমালয় পবতমালা,পূবে কামরুঠ,পশ্চিমে পারস্য ও গান্দার পযন্ত এই সাম্রাজ্য  বিস্তৃত  ছিল। এর রাজধানী ছিল পাটলীপূত্র।চানৈক্য ছিলেন মৌয্য রাজ্যের উপদেষ্টা ব্রামন আচায্য। রাজা অশোক ছিলেন মৌয্য বংশের কিংবদন্তী সম্রাট।মৌয্য রাজারা রাজত্ত করেন ৩২২ খ্রীস্ট পূবাব্দ থেকে ১৮৫ খ্রীস্ট পূবাব্দ পযন্ত ১৩৭ বছর।

শুঙ্গ ও অন্ধ্র বংশ

মৌয্য বংশের পর শুঙ্গ বংশ ও তারপর অন্ধ্র বংশ এই অঞ্চল  শাসন করে।

গুপ্ত যুগ

গুপ্ত বংশের রাজত্তকাল ৩২০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৫৫০ খ্রিস্টাব্দ।রাজাধিরাজ শ্রীগুপ্ত এই সাম্রাজ্য  প্রতিস্টা করে।এই যুগের সৈন্যদল খুব শক্তিশালী ছিল।রাজকোষ  থেকে প্রতিরক্ষা খাতে বিস্তর খরচ করা হত।গুপ্তযুগ  কে ভারতবর্ষের ইতিহাসে সনযুগ বলা হয়।কারন এই যুগে ভারতীয়  শিল্প, সংস্কৃতি, সাহিত্য ও জ্যোতিশাস্ত্র অভুতপুব বিকাশ লাভ করেছিল।মধ্যপ্রদেশের উজয়ন ই ছিল গুপ্তযুগের রাজধানী। রাজসভার কবি ছিলেন কালীদাস।এই যুগের পন্ডিত আযহট্ট।জ্যোতিশাস্ত্র ও নানা ধরনের গাণিতিক হিসাব উদ্ভোদন করেন। অজন্তার গুহাচিত্র এই যুগের নিদর্শন। 

গৌড় শাসন

গুপ্ত  বংশের পর রাজা শশাঙ্ক বাংলার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যগুলো কে একত্রিত  করে গৌড় নামের জনপদ  গড়ে তুলেন।আধুনিক বংগ ও বিহার এলাকা তার সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত ছিল।৫৯০ থেকে ৬২৫ খিস্টাব্দ মধ্যে  তিনি রাজত্ব  করেন।কণসুবণ ছিল গৌড় রাজ্যের রাজধানী।যা বর্তমান পশ্চিমবংগের মুশিদাবাদ নামে পরিচিত।কোন কোন ঐতিহাসিক দের মতে,রাজা শশাঙ্ক প্রথম  বংগাব্দ চালু করেন।৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে ২০শে মাচ শনিবার  ছিল পহেলা বৈশাখ পহেলা বংগাব্দ।শশাঙ্কের পর হষবধন গৌড় শাসন করেন। শশাঙ্কের  মৃত্যুর পর  গৌড় রাজ্যের পতন ঘটে।শক্তিশালী  কেন্দ্রীয় প্রশাসন  না থাকায় ক্ষুদ্র রাজ্যগুলি সতন্ত্র হয়ে ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় নামে।ফলে নিজেদের মধ্যে অন্তদন্দ বিবাদে সমগ্র  রাষ্ট্রজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করতে থাকে।  এই অবস্থা প্রায় দেরশ বছর যাবত চলে। ঐতিহাসিকরা যাকে বাংলার মাতস্যন্যায় যুগ হিসেবে অভিহিত  করে।

পাল শাসন

মাতস্যন্যায় এর সময় বাংলার বিশৃঙ্খলা দমনের জন্য সমাজপতিরা নির্বাচন  এর মাধ্যমে গোপাল নামক এক সামন্ত রাজা কে বাংলার রাজা হিসেবে গ্রহণ  করেন। যার মাধ্যমে ৭৭৫ খিস্টাব্দে পাল যুগের সূচনা হয়।বাংলা কে কেন্দ্র  করে গড়ে উঠা পাল সাম্রাজ্য পূবে কামরুদ,দক্ষিণে উড়িষ্যা,পশ্চিমে পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আরব বনিক সুলায়মান এর লেখা তে জানা যায়,পাল সেনাবাহিনীতে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার লোক চালানী ঘোড়া ও কাপড় কাচাঁর কাজে নিয়োজিত থাকত।পাল রাজারা ছিলেন বৌদ্ধধমালম্বী।নওগাঁ  জেলার সৌমপুর বিহার,  ময়নামতির শালবনবিহার,বিক্রমপুরের নাটেশর বিহারসহ বহু বিহার মন্দির  এই যুগের নিদর্শন।পাল বংশের স্তায়িত্তকাল ছিল প্রায় চারশ বছর।পাল বংশের সবশেষ রাজা রামপাল। পাল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি  ঘটে ১১২৪ খিস্টাব্দে।

সেন যুগ

সেন বংশের প্রথম  রাজা হেমন্ত সেন।তার ছেলে রাজা বিজয় সেন এর শাসনামল এ বাংলা সবপ্রথম একশাসনাধীন এ আসে।বিজয়সেন কে সেনবংশের শ্রেষ্ঠ সম্রাট  হিসেবেও অভিহিত  করা হয়।সেন যুগের রাজধানী  ছিল বিক্রমপুরের রামপাল।বল্লার সেন কে নিয়ে অনেক কিংবদন্তি কাহিনী  প্রচলিত  আছে বিক্রমপুরের রাম্পাল দিঘী বল্লালসেন খনন করেছিলেন। লক্ষণ  সেন এর সময় ১২০৪ খিস্টাব্দে বখতিয়ার খলজী রাজ্য  আক্রমন করলে বাংলা তার গৌড় রাজ্য হারায়।তারপর ধীরে ধীরে ত্রয়োদশ শতকের শেষনাগাদ সেন বংশের অবসান ঘটে।এরপর দেব বংশ সোনারগাঁ  এ রাজধানী স্তাপন করে কিছুকাল পুববংগ শাসন করে।

মুসলিম শাসন

৭১২ খিস্টাব্দে আরব সেনানায়ক  মুহাম্মদ বিন কাশিম  সিন্ধু  রাজ কে পরাজিত  করে ভারতীয় উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের সূচনা করে। ১১৯২   খিস্টাব্দে তুকি শাসক মুহাম্মদ  গুরি  দিল্লী সালতালাত প্রতিস্টার মাধ্যমে ভারতীয়  মূল ভূখন্ডে মুসলিম শাসন প্রতিস্টা করে।এবং  বাংলায় প্রথম  মুসলিম শাসন প্রতিস্টা করে ইখতিয়ারউদ্দিন  মুহাম্মদ বখতিয়ার খলজি ১২০৪খিস্টাব্দে। ১৭৫৭ খিস্টাব্দে পলাশীরর যুদ্ধে ব্রিটিশ  ইস্ট  ইন্ডিয়া কোম্পানিরর  হাতে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসন এর অবসান হয় এবং  ১৭৯৯ খিস্টাব্দে মুহিসুরের শাসক টিপু সুলতান ইংরেজদের হাতে পরাজিত  হলে সমস্ত  ভারতে মুসলিম শাসনের সমাপ্তি  হয়।

ব্রিটিশ শাসন

১৭৫৭ খিস্টাব্দ থেকে ১৯৪৭ খিস্টাব্দ পযন্ত ব্রিটিশরা ভারতবর্ষ  শাসন করে। প্রথমত  তাদের রাজনৈতিক প্রতিষ্টার উদ্দেশ্য ছিল এদেশে বাণিজ্য করার। ১৭৭০খিস্টাব্দে বা ১১৭৬ বংগাব্দে এক মারাত্মক  দুবিক্ষ ঘটেছিল যা ছিয়াত্তর  এর মনন্তর নামে পরিচিত। বাংলার এক তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল এই  দূবিক্ষে। ১৮৫৭ খিস্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটায়। এবং ভারত সরাসরি ব্রিটিশ  রাজবংশের শাসনাধীন  এ চলে আসে। তখন কলকাতা কে ব্রিটিশ  ভারতের রাজধানী  করা হয়।বিংশ শতাব্দীর প্রথমাব্দে মহাত্যা গান্ধীর নেতৃত তে  ভারতীয়  জাতীয় কংগ্রেস  এক দেশব্যাপী সাধীনতা সংগ্রাম  এর ডাক দেয়।অবশেষে ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ গ্রেট  ব্রিটেন  এর অধীনতা পাস ছিন্ন করে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত  হয়ে ভারত ও পাকিস্তান  নামে দুইটি আলাদা  রাষ্ট্র ঘটন করে।

পাকিস্তান  আমল

ভারতের পূবাংশে পূব পাকিস্তান ও পশ্চিমাংশে পশ্চিম পাকিস্তান নিয়ে পাকিস্তান  রাষ্ট্র ঘটিত  হয়।পরবর্তীতে  বঙ্গবন্ধুর নেতৃতে মুক্তিযুদ্ধের ফলশ্রুতিতে ৩০ লক্ষ বাঙালিরর আত্নত্যাগের বিনিময়ে পূব পাকিস্তান  স্বাধীন বাংলাদেশ  রাষ্ট্র  হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠা করে।

সাধারণ BCS Exam Guideline এ কেন কমন পড়ে না? বিসিএস অনেক এর জন্য ই কাংখিত একটা পেশা।সবাই বিসিএস ক্যাডার হতে
শরীরে শক্তির অভাব, দুর্বলভাব, কাজের প্রতি অনিহা বিসিএস, সরকারি চাকরী, বেসরকারি চাকরী অথবা যে কোন একাডেমিক পরীক্ষার সময় নিজেকে অনেক
আপেলের গল্প ছাড়া নিউটন সম্পর্কে আর কি জানেন ? সর্বশ্রেষ্ঠ কয়েকজন বিজ্ঞানীর নাম বলতে বলা হলে অনেকে যদিও অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের
Consumer Behavior | Case study in Bangla লিখেছেনঃ অনিরুদ্ধ দে প্রোডাক্ট, প্রাইস প্রফিট, পজিশনিং এর আগে Consumer Behavior নির্বাচন করুন।
লিখেছেনঃ ডাঃ টমাস দে টিটু      জন্মের পর থেকে জ্বর হয়নি এরকম মানুষ হয়তো খুব কমই আছে। বিশেষ করে
সফল হওয়ার জন্য নিয়ম মানার বিকল্প নেই                           
jonmer por theke jor hoyni erkm manush hoyto khb kom ee ache ..bishesh kore amdr moto unnoyonshil deshe proti nioto

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *